চে গুয়েভারার দীর্ঘ ছায়া

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 10 Oct 2024

3420 বার পড়া হয়েছে

Shoes

চে গুয়েভারার মৃত্যু ৫৭ বছর ছুঁয়ে দিলো গত ৯ অক্টোবর। বলিভিয়ার সবুজ অরণ্যে ঘেরা লা হিগুয়েরা পাহাড়ের মাথায় এক নির্জন স্কুলঘরে বিপ্লবী জীবনকে চির বিদায় জানান চে গুয়েভারা। হাত বাঁধা অবস্থায় গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া তার শরীর পড়েছিলো এক পুকুর রক্তের ভিতরে। ১৯৬৭ সালের ১১ অক্টোবর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর  ডিক্লাসিফাইড একটি নোটে দেখা যায় ওয়াল্ট রসটো নামে গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জনসনকে জানাচ্ছেন, চে গুয়েভারাকে হত্যা করার বিষয়টা নির্বুদ্ধিতা হলেও বলিভিয়ায় মার্কসবাদী গেরিলা যুদ্ধ দমনে প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহৃত আমাদের প্রশিক্ষণ পাওয়া বাহিনী চমৎকার কাজ করেছে। বলিভিয়ার ২য় রেঞ্জার ডিভিশনকে প্রশিক্ষিত করে তুলেছিলো আমাদের বিশেষ গ্রিন ব্যারেট বাহিনী। ওই ডিভিশনই লা হিগুয়েরা পাহাড়ে চে গুয়েভারাকে খতম করে দিয়েছে।

বেশ কয়েক বছর আগে আমেরিকান সাংবাদিক ডেভিড কর্ন প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন সিআইএ-র এরকম আরেকটি দলিল। সেখানে সেই সময়ে বলিভিয়ার সেনাবাহিনীতে একজন মার্কিন গোয়েন্দার অস্বিত্ব প্রকাশ পায়। তার নাম ছিলো ফেলিক্স রডরিগেজ। সাংকেতিক নাম, ফেলিক্স রামোস। ফেলিক্স নামের এই ব্যক্তি তখন বলিভিয়ায় চে গুয়েভারার বিরুদ্ধে পরিচালিত অপারেশনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সূত্র হয়ে ওঠে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, এই এজেন্ট ফেলিক্সের কাছেই সিআইয়ে থেকে বার্তা যায় চে গুয়েভারাকে হত্যা না করার জন্য। কিন্তু ফেলিক্স সেই নির্দেশনা না-মেনে চে-কে খুন করার নির্দেশ পাঠায় পাহাড়ে বলিভিয়ার রেঞ্জার ব্যাটেলিয়নের কাছে। তবে সে তাদেরকে নির্দেশ দেয় চে গুয়েভারার মুখে গুলি না করার জন্য।

চে গুয়েভারাকে যেদিন হত্যা করা হয় সেদিন ফেলিক্স নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলো। গুলি করার পর ফেলিক্স চে-র কব্জিতে বাঁধা রোলেক্স হাত ঘড়িটি খুলে নিয়ে যায়।

চে গুয়েভারার মৃত্যুর বিষয়টা নিশ্চিত হওয়ার পর ১৯৬৭ সালের ১৮ অক্টোবর হাভানার প্লাজা ডি লা রেভোলিউনে লক্ষ লক্ষ মানুষের এক সমাবেশে শোক ভাষণে তার অকৃত্রিম বন্ধু ও সহযোদ্ধা চে গুয়েভারাকে বিপ্লবী সংগ্রামের একজন শিল্পী আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘তারা ভাবছে চে-র মৃত্যুর ভিতর দিয়ে সব শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তারা ভুল ভাবছে। এই মহান বিপ্লবীর মৃত্যু তার চেতনার মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। চে বেঁচে থাকবে মানুষ যতদিন বাঁচবে। কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে, আমাদের আগামী প্রজন্ম কার মতো হবে, আমি বলবো তারা চে গুয়েভারার মতো বড় হয়ে উঠুক।’

তথ্যসূত্রঃ ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ, জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি

ছবিঃ গুগল

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199