ভয়ংকর ভ্রমণ

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 31 Oct 2024

4405 বার পড়া হয়েছে

Shoes

ভয়ংকর ভ্রমণ বলে কথা। নিশ্চিন্ত প্রকৃতি আর তার সব রূপ দেখার জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষা অসীম। কিন্তু বিপজ্জনক জায়গা, ভয়ংকর ইতিহাসের ছায়া দেখার জন্যও কিছু মানুষের মধ্যে ভীষণ আগ্রহ আছে। আর এই

স্কটল‌্যান্ড ইয়ার্ডের ‘ডার্ক মিউজিয়াম’

আগ্রহের কথা বুঝতে পেরেই  ত্রাস উদ্রেককারী পর্যটন অথবা বিপজ্জনক ট্যুরিজমের  ভাবনাটি প্রথম নিয়ে এলেন দুই বন্ধু, লেনন এবং ফোলে। তারা দু‘জন একসঙ্গে কাজ করতেন গ্ল‌াসগো ক‌্যালেডোনিয়ান বিশ্ববিদ‌্যালয়ের পর্যটন বিভাগে। তাঁদের মনে হয়েছিল, পর্যটনের সঙ্গে বিপদ, ভয়, বিচিত্র আশঙ্কা, মানুষের পীড়ন, অত‌্যাচারের গল্প, এমনকী পর্যটকদেরও মৃত্যুর সম্ভাবনা– এসব টেনশন মেশাতে পারলে পর্যটনের বাণিজ্যিক বাজার তরতর করে বেড়ে যাবে। এই ধরনের ভয়ার্ত, মৃত্যুময় পর্যটনের তারা একটা নামও ঠিক করলেন---‘ডার্ক ট্যুরিজম’। এবং সত্যিই তৈরি হলো ভ্রমণের নতুন শৈলী, বেড়ানোর নতুন বাজার।
কারো বেড়ানোর আগ্রহ হিটলারের কনসেনট্রেশন ক‌্যাম্পে, যেখানে হাজার-হাজার ইহুদিকে হত‌্যা করা হয়েছিলো। আবার কারো দেখার আগ্রহ হিরোসিমা-নাগাসাকি।  পারমাণবিক বোমার ধ্বংসলীলা উপভোগ করে শিহরিত হতে চান তারা। এমনকী, জাগ্রত আগ্নেয়গিরিকে খুব কাছ থেকে দেখানো বা মাউন্ট এভারেস্টের খুব কাছে নিয়ে যাওয়ার বিপজ্জনক ফ্লাইটও এখন আধুনিক ডার্ক ট্যুরিজমের অঙ্গ। ভয়ংকর খাদের ধারে ঝুলন্ত বাড়িতে একরাত কাটানো, বা পাহাড়ের উপর বরফের ঝড়ের মধ্যে কাচের ঘরে রাত কাটানোর আহ্বান, এমন বিপর্যয়ের রোমাঞ্চ ও নেশা টানছে অনেককেই।
একবার পৃথিবীর শেষ রাজকন্যা ডায়না নিজের ইচ্ছায় রাজি হয়েছিলেন এই বিকট ভয়ের এক পর্যটনে যেতে। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিখ‌্যাত স্কটল‌্যান্ড ইয়ার্ডের ‘ডার্ক মিউজিয়াম’-এ। সেখানে কাচের আলমারিতে সারি-সারি সাজানো সেই সব ভয়ংকর মানুষদের প্রতিমূর্তি যারা জড়িয়ে আছে বীভৎস খুন আর কদর্য অপরাধের সঙ্গে। তখন তাকে জাদুঘরের একজন সাজিয়ে রাখা একটি দূরবিনে চোখ রাখতে অনুরোধ করেন। এক জঘন‌্য অপরাধী তার প্রেমিকাকে এই দূরবীন উপহার দিয়েছিলো। সেই তরুণী যন্ত্রটিতে চোখে লাগিয়ে অ‌্যাডজাস্ট করতেই দু‘টি পেরেক ওই যন্ত্র থেকে বের হয়ে তার দু‘চোখে তীব্র বেগে ঢুকে যায়। সেই মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে অন্ধ হয়ে যায়। ডায়না প্রশ্ন করেছিলেন, কেন এমন দূরবীন সেই জঘন‌্য অপরাধী তার প্রেমিকাকে উপহার দিয়েছিল? উত্তরে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জাদুঘরের গাইড জানিয়েছিলো, সেই অপরাধী কোর্টে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে বলেছিলো, ‘আমি চাই না আমার পরে এই নারী আর কোনো পুরুষের দিকে তাকাতে পারুক।’ ডায়না শিউরে ওঠে দু’-হাত দিয়ে নিজের চোখ ঢেকে ফেলেছিলেন সেদিন।
এখন ভয়ংকর ঝড়ের সময় আমরা দেখতে পাই অনেক মানুষ ছুটছেন সমুদ্রে। তারা সেখানে বসে প্রকৃতির তাণ্ডবলীলা দেখতে চান। প্রকৃতির দানবীয় রূপকে উপভোগ করতে চান। এসব ঘটনায় কখনো কারো প্রাণও চলে যায়। কিন্তু তাতেও মানুষের মধ্যে কমছে না ভয়ংকর ভ্রমণের নেশা।

তথ্যসূত্রঃ কলকাতা প্রতিদিন
ছবিঃ গুগল

 

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199