সাঁইত্রিশ বছর পর ‘জনতার সামনে’

আবিদা নাসরীন কলি

সম্পাদক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 30 Jan 2025

9620 বার পড়া হয়েছে

Shoes

৮০’র দশক এবং একজন রেজাউর রহমান। যিনি তার অদম্য সাহস আর প্রজ্ঞা দিয়ে সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে উঠেছিলেন। ৮৩ সাল, মাত্র ২৫ বছরের এই তরুণ যার আইনের সনদের বয়স ছিলো মাত্র  এক বছর।সেই সময়েই বিটিভিতে আইন বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘আইন আদালত’নিয়ে তিনি হাজির হন।অল্প কিছুদিনেই এই অনুষ্ঠান এতো দর্শকপ্রিয়তা পায় যে আধ ঘন্টার এই প্রোগ্রামটির সময়সীমা বেড়ে চলে আসে এক ঘন্টায় এবং বিটিভির প্রাইম টাইমে।নাচ-গান ছাড়া এমন একটি প্রোগ্রাম পাল্লা দিয়ে চলতে থাকে টিভি নাটক আর বিনোদন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি। যা এখন কেউ ভাবতেও পারবেনা। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই আমরা প্রথম পরিচিত হই টিভি রিপোর্টিং এর সঙ্গে। সমাজের অনেক অসংগতি লোকের সম্মুখে নিয়ে এসে তীব্র ভাষায় তার প্রতিবাদ মানুষের মনে দাগ কাটে। একজন আইনজীবি হিসেবে মানুষকে আইনের প্রতি সচেতন করা। আইনকে মানুষের জীবনে স্থায়ী করা এই নিয়েই ছিলো তার নিরলস প্রচেষ্টা।

সঞ্চালক রেজাউর রহমানের জনপ্রিয়তা তখন আকাশ ছোঁয়া। তার এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেকেই উপকৃত হয়েছেন, ন্যায় বিচার পেয়েছেন। তাই অনেকে তাকে একটু ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছেও প্রকাশ করতেন।অনেকে আবার তার জন্য দু’হাত তুলে দোয়াও করতেন। তবে বাঁধ সাধলেন তখনকার স্বৈরশাসকের উচ্চ পর্যায়ের লোকেরা। এবার রেজাউর রহমানকে অনেক প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখী হতে হয়।জীবনযাত্রা হয়ে যায় ঝুকিপূর্ণ। নানা পর্যায় থেকে হুমকী আসতে থাকে। টানা চার বছর অনুষ্ঠানটি চলার পর এবার অনুষ্ঠানের উপর নানা ধরনের সেন্সর শুরু হয়ে যায়।রেজাউর রহমান বুঝতে পারেন এ অনুষ্ঠান এবার বন্ধ হবার মুখে। তখন তিনি অনুষ্ঠানটি যেনো বন্ধ করে দেয়া না হয় সে জন্য অনেকের কাছে সহযোগীতা চাইলেন। তবে সবারই এক কথা “ আপনার অনুষ্ঠান ভালো।আপনি সাহসী কথা বলেন।তবে এটা তো রাজনৈতিক ইস্যু না তাই আমাদের করার কিছু নাই।” রেজাউর রহমানের উপলব্ধি হলো তিনি কার জন্য লড়াই করছেন!তিনি তো একা!দেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে ঠিকই কিন্তু তিনি তো একা কোনো শক্তি না। এই বোধোদয় থেকেই তিনি শীর্ষস্থানীয় নেতা-নেত্রীদের কাছে যান। বলেন, আপনারা একসঙ্গে বসেন।মিডিয়াকে ফ্রী করে দেয়ার কথা বলেন।কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত রেষারেষির কারণে তারা একসঙ্গে বসতে পারেননি।আর তার ইস্যুটাও জোরদার হয়নি।তখন তিনি শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গেও কথা বলেছেন। কিন্তু কোন কাজ হয় না। ৮৭ সনে এসে  তুমুল জনপ্রিয় ‘আইন আদালত’ অনুষ্ঠানটিও বন্ধ হয়ে যায়। এতে জনমনে প্রচন্ড প্রভাব পড়লেও কোনো লাভ হয় না। এমন একটা দেশ আমাদের এখানে জনগনের কথা কি কেউ ভাবে!!

তবে রেজাউর রহমানও থেমে যাওয়ার পাত্র নন।এবারও তিনি জনগনের কথাই ভাবলেন।আবারও তিনি ভাবলেন কিভাবে দেশের শিক্ষিত-স্বল্পশিক্ষিত মানুষের জীবনে আইন স্থায়ী করা যায়। তবে এবার আরও প্রতিবাদী হলেন। ‘জনতার সামনে’ শিরোনামে আরও একটি প্রোগ্রামের চিন্তা করেন। বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এখানে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর কথা থাকবে। রাজনৈতিক ইতিহাস থাকবে। কে জাতীর পিতা, কে স্বাধীনতার ঘোষক না পাঠক এ প্রোগ্রমে তার সমাধান হবে।এ জন্য তার কাছে পলিটিক্যাল ফ্রিডমটা অনেক জরুরী ছিলো। জমা দিলেন বিটিভির কাছে। ওখানকার কর্তাব্যক্তিরা তখন আতকে উঠলেন!বললেন,` আমাদের দেশে এমন প্রোগ্রাম করা সম্ভব নয়।‘ তখন তারা রেজাউর রহমানকে পাঠালেন তথ্য মন্ত্রনালয়ে।অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা দেখে তাদেরও চক্ষুস্থির।তারা বললেন,`একমাত্র রাষ্ট্রপতিই এটা প্রচারের অনুমতি দিতে পারেন।‘ এবার তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছে যান।সব শুনে এরশাদ বললেন,‘ এর আগে তো কেউ আপনাকে এ ধরনের প্রোগ্রাম করতে দেয়নি তাহলে আমি কেনো দেবো?শেখ মুজিবের সময়ে ভাসানীর কথা বলা হতো না। টেলিভিশনে শুধুই মুজিব মুজিব।জিয়াউর রহমানের সময় শেখ মুজিব কোথাও নেই শুধুই জিয়া।তাহলে আমি কেনো দেবো এ অনুষ্ঠান করতে?’ রেজাউর রহমান তখন এরশাদকে প্রশ্ন করেন,  ‘আপনি কি আওয়ামী লীগের সমর্থক নাকি বিএনপির সমর্থক?’এরশাদ রেগে গেলেন বললেন, এটা কি ধরনের প্রশ্ন আমার তো জাতীয় পার্টি আছে।তখন রেজাউর রহমান বোঝালেন,‘আপনি উনাদের মতের অনুসারী না হলে আপনি ভিন্নভাবে চলুন। কেউ করতে দেয় নাই তো কি হয়েছে আপনি করতে দিন।’এবার এরশাদ নমনীয় হলেন। কিছুক্ষন ভেবে বললেন,‘বিরোধী দল যদি অংশ নেয় তাহলে অনুষ্ঠানটা হতে পারে তবে আমাকে বিব্রত করে এমন কোনো বিষয় নিয়ে টানাটানি করা যাবে না।’

এবার একটা পান্ডুলিপি তৈরী করে রেজাউর রহমান প্রথমে শেখ হাসিনার কাছে যান।এবং পান্ডুলিপি পড়ে শোনান।রেজাউর রহমান বলেন, ‘পড়তে পড়তে এক জায়গায় এসে বললাম বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন শেখ হাসিনা আমাকে থামিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করলেন বঙ্গবন্ধু কি শুধু বাংলাদেশের স্থপতি? উনি তো জাতীর পিতা,সেটা তো বললেন না।তখন আমি তাকে বোঝাতে চাইলাম আমি যা বলিনি সেটাইতো আপনি অনুষ্ঠানে পয়েন্ট আউট করবেন।আমাকে ধরিয়ে দেবেন।তখন আপনি বলবেন রেজাউর রহমান পক্ষপাতদুষ্ট,সে বঙ্গবন্ধুকে জাতীর পিতা বলেনি। এভাবেই তর্ক জমুক। এটা নিয়েইতো ইস্যু। আমি উনাকে স্থপতি বলেছি। আমি মনে করি উনিই স্থপতি। উনি সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী।আবার স্ক্রিপ্ট পড়তে শুরু করলাম। এক পর্যায়ে আসলো স্বাধীনতার ঘোষনা পত্র পাঠ করে জিয়াউর রহমান।এবার তিনি আমাকে থামিয়ে দিয়ে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন।যার সঙ্গে আমি একমত নই।আমি উনাকে অনেক বোঝাতে চাইলাম এ তর্কগুলোই আপনি অনুষ্ঠানে করতে পারবেন। আমার অনুষ্ঠান এসব বিতর্কিত প্রশ্ন নিয়েই।উনি তখন বললেন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আপনাকে অনেক কিছু ঠিক ঠাক করতে হবে।’

এবার গেলেন খালেদা জিয়ার কাছে। সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী,আব্দুল মতিন চৌধুরীসহ কয়েকজন ব্যারিস্টার।রেজাউর রহমান বলেন, ‘এখানেও বিপত্তি।খালেদা জিয়াকে পান্ডুলিপি পড়ে শোনাচ্ছি যেই বাঙলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর কথা এলো তখনই উনি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,”বঙ্গবন্ধুকে স্থপতি বলছি এর মানে কি?কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন আপনি?”  আমি তখন বললাম বঙ্গবন্ধুকে জাতীর পিতা বলা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে কিন্তু উনি তো অবশ্যই বাংলাদেশের স্থপতি।তারপর এক পর্যায়ে আমি পড়ছি স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করেন জিয়াউর রহমান। তখনই উনি আমাকে থামিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করেন আপনি তো উনাকে পাঠক বানিয়ে দিলেন। আসলে তো হবে উনি স্বাধীনতার ঘোষক।আমি বললাম এ সব বিতর্ক নিয়েই আমার প্রোগ্রাম। আমি উপস্থাপক আমি নিরপেক্ষ থাকতে চাই। আপনারা অনুষ্ঠানে গিয়ে আমাকে ধরুন। তর্ক-বিতর্ক চলুক।যেখানে এরশাদ এখন মিডিযা কন্ট্রোল করছে এবং নিজেকে টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে। এ সময় আপনারা যদি একমতে না আসেন তাহলে তো আমরা পাড় পাবো না। ক্ষুদ্ধ হলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বললেন, ”আমি এখানে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। আপনি কাদের হয়ে কথা বলছেন?”আমি বললাম আমি কারো হয়েই কথা বলছিনা। আমি চাই আপনারা একত্রিত হোন। একটা বড় ধাক্কা দেন। এরশাদ সরে দাড়াঁক। বি চৌধুরী আর মতিন চৌধুরী তখন এমন সব কথা শুরু করলেন যে খালেদা জিয়া বিব্রত হয়ে বলেন আমরা এই মুহুর্তে এ ধরণের অনুষ্ঠানে যাবো না।’

তারপরও রেজাউর রহমান হাল ছাড়েননি।অনুষ্ঠানটির জন্য অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছেন কিন্তু ঘোষক না পাঠক,স্থপতি না জাতীর পিতা এই বিতর্কে দুই দলের কারোই সহযোগীতা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাকে বার কয়েক এরশাদের কাছে যেতে হয়। তখনই লোকে তাকে ভুল বুঝতে শুরু করে।

কথা প্রসঙ্গে একদিন প্রেসিডেন্ট এরশাদ তাকে পথশিশুদের নিয়ে একটা কিছু করতে বলেন রেজাউর রহমান একটা ধারণা দেন সেই ধারণা নিয়েই এরশাদ পথশিশুদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন এবং তা বাস্তবায়নও করে ফেলেন।

এবার স্কুল উদ্বোধন করবেন।উদ্বোধনের দিন রেজাউর রহমান মঞ্চে ছিলেন না এবং থাকতেও চাননি।কিন্তু এরশাদ তাকে ডেকে মঞ্চে আসতে বাধ্য করেন এবং বলেন, ‘রেজাউর রহমান আপনাদের প্রিয় মানুষ আমি এই পথশিশুদের স্কুলের দায়িত্ব তার হাতে তুলে দিলাম।’ তাতে করে আরও বিপত্তি ঘটে।একদল মানুষ ফুলের মালা নিয়ে তার বাসায় উপস্থিত হয়। কেউ অটোগ্রাফ নিতে আসে।আরেক দলের মুখে অন্য কথা।তারা বলেন,` আপনি এত নীচে নেমে গেলেন আমরা তাহলে কার উপর নির্ভর করবো।‘এদিকে জোর চাউর হয় রেজাউর রহমান মন্ত্রী হতে চলেছেন। রেজাউর রহমান বলেন,‘তেমন কোন কথাই না।আমি প্রচন্ড ভাবে মানসিক অশান্তিতে পড়লাম। একদিকে নিন্দা অন্যদিকে ভালোবাসা। এ বড়ো যন্ত্রনার বড়ো বিড়ম্বনার।

অবশেষে একদিন প্রেসিডেন্ট এরশাদ রেজাউর রহমানের ‘জনতার সামনে’ প্রোগ্রামটা দেখলেন। তখনকার তথ্যমন্ত্রী, তথ্যসচিব প্রোগ্রমটার খুব প্রশংসা করেন।অনুষ্ঠানের শুরুটা ছিলো বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠের সেই ভাষণ দিয়ে। অনেকেই জানেন না রেজাউর রহমান এ ভাষনটা সংগ্রহ করেছিলেন অনেক কাটখড় পুড়িয়ে কারণ ভাষনটা বিটিভি তে ছিলো না। এটা চুরি হয়ে গিয়েছিলো। এটা রেজাউর রহমানই উদ্ধার করেছিলেন প্রোগ্রামে জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচিও দেখানো হলো। সময়টা এরশাদের বলে তারও কিছু কর্মকান্ড দেখানো হলো।শেষে ছিলো সার্জেন্ট জহুরুল হকের ওপর একটা বিশেষ প্রতিবেদন।রেজাউর রহমান বলেন, ‘এই প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে এরশাদ আপত্তি তুললেন।বললেন, জহুরুল হক এখানে অপ্রসঙ্গিক এটা যাবে না।’

রেজাউর রহমান আবার কাজে নামেন এবার মাস তিনেক কেটেখুটে লে: কমডোর মোয়াজ্জেম হোসেনের ওপর একটা প্রতিবেদন তৈরী করে দ্বিতীয় এপিসোডও এরশাদকে দেখান এবং মনোনীত হয়।
৯০’এর ডিসেম্বরে এরশাদের পতন হলো। রেজাউর রহমানের জীবনে নেমে এলো প্রচন্ড দু:সময়।বলেন,‘আইন আদালত’প্রোগ্রামটাতে যাদের গাত্রদাহ ছিলো যাদের যাদের বিরুদ্ধে আমি গত চার বছর কথা বলেছিলাম তাদের যোগসাযগে আমার বাসায় হামলা করা হয়।ডকুমেন্ট গায়েব করতে ‘আইন আদালত’ প্রোগ্রামের ক্যাসেট-মানবাধিকারের কাগজ-পত্র সব তছনছ করে দেয়া হয়। এক পর্যায়ে আমি তখন বাসা ছাড়তে বাধ্য হই। তবে খুবই দু:খজনক যে, একটা প্রোগ্রমের জন্য এরশাদের কাছে আমাকে অনেকবার যেতে হয়েছিলো বলে গনদুষণের তালিকায় আমার নামটা শীর্ষে ছাপা হয়।অথচ একজন আইনজীবি হিসেবে মানুষের জন্য তাদের জীবনে আইন স্থায়ী করতেই আমার এই চেষ্টাটা কেউ উপলদ্ধি করলো না।আমিতো কোনো দলের না। সব সময়ই নিরপেক্ষ থেকে আইন নিয়ে জনগনের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আর সেই জন্যই শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া সবার কাছেই সাহায্য চেয়েছি। তবুও মানুষের পাশে থাকার, সত্যটা সামনে আনার জন্য আমার এ প্রচেষ্ঠাকে সবাই ভুল বুঝলো।’

অভিমান এবং রাগ-দু:খ নিয়ে ৯১সালে রেজাউর রহমান দেশ ছেড়ে চলে যান।পাঁচ বছর পর ৯৬ তে আবার দেশে ফেরেন তবে স্থায়ী ভাবে নয়। এখন কানাডাতেই থিতু হয়েছেন। প্রায় প্রতি বছরই দেশে আসেন।বলেন, দেশে এলে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা হয় তারা আমার প্রতি অন্যায় হয়েছিলো বলে দু:খ প্রকাশ করেন। সবকিছু ভেবে আমারও কষ্ট হয়।ক্ষরণ হয়।

তবে সাঁইত্রিশ বছর পর রেজাউর রহমানের মনে লালন করা স্বপ্ন বাস্তব হলো।গত বছরের প্রান্তে রেজাউর রহমান বাংলাদেশে আসেন। বছরটা বিটিভির হীরক জয়ন্তীর।তাই বিভিন্ন প্রোগ্রামে রেজাউর রহমানের সঙ্গে বিটিভির অনেকের দেখা হয়।এবার বিটিভির বর্তমান মহা পরিচালক জনাব মাহবুবুল আলম তাকে ‘জনতার সামনে’প্রোগ্রামটা বিটিভিতে প্রচার করার প্রস্তাব রাখেন। একসময় মাহবুবুল আলম ‘আইন আদালত’ এর প্রযোজক ছিলেন। রেজাউর রহমানের এই প্রোগ্রাম আর তার পেছনের গল্পটা তিনি জানতেন। রেজাউর রহমান তাই রাজী হয়ে যান। প্রথমে কথা হয় প্রতি মাসে ২টা করে প্রোগ্রাম অন এয়ার হবে। কিন্তু যেহেতু রেজাউর রহমানকে দেশের বাইরে থেকে প্রোগ্রামটা তৈরী করতে হবে সেক্ষেত্রে মাসে ২টা প্রোগ্রাম করা বেশ ঝামেলার আর বিটিভির পক্ষেও তাল মেলানো কষ্টকর হবে। তাই শেষ পর্যন্ত মাসে একটা করেই অন এয়ার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ইতোমধ্যে রেজাউর রহমান দেশে থাকাকালীন জানুযারীতে ‘জনতার সামনে’ একটা প্রোগ্রাম অন এয়ার হয়ে গেছে।এবং প্রোগ্রামটা বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
রেজাউর রহমানের কাছে সবশেষে জানতে চাইলাম ,‘ এবারও কি আগের মতো জনপ্রিয় হতে পারবেন?তিনি বলেন,জনপ্রিয়তা একটা আপেক্ষিক বিষয়। জনপ্রিয় কেউ নিজে হতে পারে না কারো পক্ষে জনমত তাকে জনপ্রিয় করে। তবে আমি কখনও  জনপ্রিয়তার জন্য কিছু করি না।একজন আইনজীবি এবং একজন মানুষ হিসেবে আমি যা করি তা থেকে যদি মানুষ উপকৃত হয় বা তার জীবনে এটা কোনো ভূমিকা রাখে তাতেই আমার অপার আনন্দ ।’  

ছবিঃ রেজাউর রহমানের ফেইসবুক ও গুগল থেকে

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199