প্যারিসের আই লাভ ইউ লেখা দেয়াল

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 24 Oct 2024

3430 বার পড়া হয়েছে

Shoes

প্যারিস শহরের বিশাল এক দেয়াল। দেয়ালের গায়ে নানান দেশের ভাষায় বিচিত্র হস্তাক্ষরে লেখা অজস্র বাক্য। বিভিন্ন ভাষায় লেখা সেইসব অজস্র বাক্যের ভিড়ে চোখে পড়বে বাংলায় লেখা একটি বাক্যও---‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ প্যারিস রোমান্সের শহর। কেউ কেউ বলে থাকেন, এই শহরে পা রাখলেই শরীরে ভালোবাসার হাওয়া লাগে। এহেন শহরে মন্টমাত্রে অ্যাবেসেস উদ্যানে আছে এক আশ্চর্য দেয়াল। ফরাসী ভাষায় দেয়ালটির নাম ‘লে মুর দেস জে টাইমে।’ ইংরেজিতে যার অর্থ হচ্ছে দ্য ওয়াল অফ আই লাভ ইউ‘স। প্যারিসে বসবাসরত বাঙালিরা একে ‘ভালোবাসার দেয়াল’ নাম দিয়েছে।

প্রায় ৪০ বর্গ কিলোমিটার চওড়া এই দেয়ালের গায়ে পৃথিবীর নানান ভাষায় লেখা হয়েছে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ এই একটি বাক্য। এই দেয়ালে এই বাক্যাংশটি লেখা হয়েছে ৩০০-এর বেশি ভাষায়। সঙ্গে বহু উপভাষায় এই বাক্যের বিবরণ লেখা আছে। সব মিলিয়ে ‘আই লাভ ইউ’ কথাটা সেখানে খোদাই করা হয়েছে সহস্রাধিকবার।

আশ্চর্য এই প্রাচীর তৈরির পেছনে রয়েছেন ফরাসি শিল্পী ফ্রেডরিক ব্যারন। পরে এই প্রাচীরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আরেক ফরাসি শিল্পী ক্লেয়ার কিটো। শুরুতে কোনো সৌধ নির্মাণের পরিকল্পনাই ছিলো না ফ্রেডরিকের। ফ্রেডারিক মজার মানুষ। আড্ডা দিয়ে বেড়াতে ভালোবাসেন। বন্ধুদের কেউ কেউ তাকে পাগল বলেও ডাকে। স্কুলের দেওয়ালে অথবা টেবিলে পেন বা কম্পাস দিয়ে ভালোবাসার চিহ্ন খোদাই করতে দেখা যায় দামাল কিশোর-কিশোরীদের। সেভাবেই পথ চলা শুরু হয়েছিল ফ্রেডরিকের। পরে এক সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় ‘আই লাভ ইউ’ বাক্যটি সংগ্রহ করা নেশা হয়ে দাঁড়ায় তার কাছে। একেবারে শুরুতে পাড়া-প্রতিবেশীদের থেকেই বিভিন্ন ভাষায় লেখা ‘আই লাভ ইউ’ বাক্যটি সংগ্রহ করতেন ফ্রেডরিক। পরে প্যারিস নগরীতে ঘুরতে আসা ভিন দেশের পর্যটকদেরও দ্বারস্থ হন তিনি। এতে শুধু ভিন্ন ভিন্ন ভাষাতে এই বাক্যটি বলতেই শেখেননি ফ্রেডরিক, বরং নিজের নোটবুকে স্বহস্তে তা লিপিবদ্ধও করে রাখেন। শেষে নিজের এই সংগ্রহকে ভিন্ন অবয়ব দিতে ফরাসি ক্যালাগ্রাফার ক্লেয়ার কিটোর কাছে গিয়ে উপস্থিত হন।  

এভাবেই শিল্পী ক্লিটো জড়িয়ে পড়েছিলেন ‘ভালোবাসার প্রাচীর’-এর সঙ্গে। এমনকি এই দেওয়াল তৈরির পরিকল্পনাও তিনি করেন।  ফ্রেডরিকের এই কর্মযজ্ঞে মুগ্ধ হয়েই মন্টমার্ত্রে আবেসেসে এই দেওয়াল তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। এই কর্মকাণ্ডে সামিল হন আরও এক ফরাসি শিল্পী ড্যানিয়েল বেলোগ। প্যারিসের উদ্যানে গড়ে তোলা হয় ৪০ বর্গ মিটারের প্রকাণ্ড প্রাচীরটি। ২১ বাই ২৯.৭ সেন্টিমিটারের এনামেল লাভার টাইলস দিয়েই তৈরি এই প্রকাণ্ড প্রাচীর।

তবে মজার বিষয় হল, নিজে ক্যালিগ্রাফার হয়েও ‘ভালোবাসার প্রাচীর’-এ বাক্য লেখার সময় বিভিন্ন ভাষায় ক্যালিগ্রাফি করেননি ক্লিটো। বরং, ঠিক যেভাবে নিজের ডায়েরিতে বিভিন্ন ভাষায় ‘আই লাভ ইউ’ লিপিবদ্ধ করেছিলেন ফ্রেডরিক, হুবহু সেটাই খোদাই করেন পাথরের দেওয়ালে।

২০০০ সালে যখন এই প্রাচীর তৈরি হয়েছিল তখন সেখানে সবমিলিয়ে প্রদর্শিত হতো ২৫০টি ভাষায় লেখা ভালোবাসার বার্তা। বর্তমানে সেই সংখ্যাটা ছাড়িয়ে গেছে ৩০০-এর গণ্ডি। আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অবলুপ্ত ভাষাদের তুলে আনার অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফ্রেডরিক। বিশ্বাস করেন, একমাত্র ভালোবাসাই জুড়ে রাখতে পারে গোটা দুনিয়াকে।

তথ্যসূত্রঃ প্রহর (কলকাতা)

ছবিঃ গুগল

 

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199