মিগুয়েল লিতিনের সেই তথ্যচিত্র

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

এডমিন ডেস্ক, ঢাকা থেকে

প্রকাশ: 19 Dec 2024

4645 বার পড়া হয়েছে

Shoes
Gabriel-Garcia-Marquez
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ

চিলির প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দের মৃত্যু হয় এক রক্তাক্ত সামরিক অভ্যুত্থানে ১৯৭৩ সালে। শাষন ক্ষমতা দখল করেন সেনা জেনারেল পিনোচেত। স্বৈরশাসনের কালো অধ্যায়ের সূচনা হয় চিলিতে। প্রগতিশীল বহু মানুষকে ওই সময়ে খুন করা হয়। দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন বহু মানুষ। সেই দেশত্যাগীদের মিছিলে অন্যতম একজন ছিলেন দেশটির বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মিগুয়েল লিতিন। ওই সময়ে লিতিন ছিলেন চিলির সরকারী চলচ্চিত্র সংস্থার প্রধান। সামরিক জান্তার মুখোশধারী খুনে বাহিনী লিতিনকে চিলির পথে পথে খুঁজতে থাকলেও তিনি বহু কষ্টে খুনীদের দৃষ্টি এড়িয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

লিতিন দীর্ঘদিন মেক্সিকো ও স্পেনে অভিবাসী জীবন যাপন করেন। পিনোচেতের স্বৈরশাসনের ১২ বছর অতিক্রান্ত হবার পর চিলিতে দুটি তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই দুই তালিকার একটিতে ছিলো এমন কিছু মানুষের নাম যারা চাইলে আবার চিলিতে ফিরে আসতে পারেন। দ্বিতীয় তালিকাটি জানায়, কারা আর কোনোদিন চিলিতে ফিরতে পারবেন না, কাদেরকে চিলির শাসকরা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করছে। সেই তালিকায় ছিলো মিগুয়েল লিতিনের নাম।

মিগুয়েল লিতিন

নির্বাসিত জীবনে লিতিন পরিকল্পনা করেন আবার তিনি চিলিতে প্রবেশ করবেন। এবার ছদ্মবেশের আড়ালে দেশে ফিরে স্বৈরশাসনের অধীনে মাতৃভূমির অবস্থা, মানুষের যন্ত্রণা তুলে ধরার জন্য একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেন তিনি। ভীষণ ভয়ংকর এক পরিকল্পনা। লিতিন বন্ধুদের বিষয়টা জানালেও তাদের অনেকেই এই পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেয়নি। কেউ তাকে সমূহ বিপদের কথা ভেবে বাধাও দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু লিতিন ততদিনে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। বিদেশের মাটিতে কিছু মানুষ আবার এগিয়ে আসেন লিতিনকে সাহায্য করতে। তার যোগাযোগ হয় চিলিতে তখন সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া অনেকগুলো বামপন্থী গেরিলা দলের সঙ্গে। তারাই এক ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে লিতিনকে বিপজ্জনক চিলিতে ঢুকতে সাহায্য করে। পদে পদে বিপদ ওৎ পেতে আছে তখন তার জন্য। ধরা পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু লিতিন সেই মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও তার কাজ শেষ করেন। আবারও চোরা পথে সীমান্ত অতিক্রম করে বের হয়ে যান। তার তৈরি তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনী শুরু হয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।

লিতিনের সেই বিপজ্জনক অভিযান এবং তথ্যচিত্রের কথা জানতে পেরে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চিলির নিহত প্রেসিডেন্ট আলেন্দে ছিলেন মার্কেজের ব্যক্তিগত বন্ধু। মার্কেজ আঠারো ঘন্টা ধরে লিতিনের সাক্ষাৎকার নেন। আর এই সাক্ষাৎকার অবলম্বনেই তিনি লেখেন প্রথম নন ফিকশন। ইংরেজিতে বইটির নাম হয় ক্ল্যানডেনস্টাইন ইন চিলিঃ দ্য অ্যাভেঞ্চারস অফ মিগুয়েল লিতিন।
মার্কেজের লেখা বই গোপনে চিলিতে ঢোকানো হয়। কিন্তু কিছুদিন পরেই সামরিক সরকার এই বইয়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে জেনে যায়। ১৯৮৭ সালের ২৫ জুন দেশটির সংবাদপত্রের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, চিলির ভালপারাসিও বন্দরে সরকারী সৈন্যরা এই বইয়ের ১৮,৮৪৬টি কপি পুড়িয়ে দিয়েছিলো। অবশ্য চিলিতে বইটির সকল কপি বাজেয়াপ্ত হলেও সারা পৃথিবীতে মার্কেজের লেখা বই ছড়িয়ে পড়ে। সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে চিলির সংগ্রামী মানুষের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েই বইটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসাবে কাজ করে।

তথ্যসূত্রঃ অন্যস্বর, কলকাতা, গুগল
ছবিঃ গুগল

 

মন্তব্য করুন

Share Article

আরো পড়ুন

আরো পড়ুন

স্বত্ব © ২০১৬ - ২০২৩ প্রাণের বাংলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: আবিদা নাসরীন কলি।

Email: Article: [email protected], Avertising: [email protected]

Phone: +8801818189677, +8801717256199